রংপুরে মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে খালাস এবং জেএমবির দুই কমান্ডারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের রায় সংশোধন করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
রংপুরে বহুল আলোচিত মাজারের খাদেম রহমত আলী (৬০) হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় পরিবর্তন করে রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এই মামলায় পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হলেও জেএমবির দুই কমান্ডারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির কমান্ডার মাসুদ রানা ও লিটন মিয়া। অন্যদিকে, হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী, সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল, সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান, উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি এবং চান্দু মিয়া।
এর আগে ২০১৮ সালে রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার এই হত্যা মামলায় মোট সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে খালাস দিয়েছিলেন। সে সময় বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে এখন হাইকোর্ট দুজনের সাজা বহাল রেখে বাকি পাঁচজনকে খালাস দিলেন। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পরদিন ১১ নভেম্বর নিহত খাদেমের ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে হাইকোর্ট এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন।