ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের চরম কড়াকড়ি ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ মূলত তাদের অজানা আতঙ্কেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সঞ্জয় কাপুর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেই তা বুঝতে পেরেই ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এই অজানা ভীতি থেকেই আন্দোলনকারীদের স্তব্ধ করতে পুরো রাজধানীজুড়ে পরিবহনব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ সংবাদ সাময়িকী 'হার্ড নিউজ'-এর সম্পাদক সঞ্জয় কাপুর আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার এই বিক্ষোভকারীদের প্রকৃত শক্তি ও আন্দোলনের সম্ভাব্য ব্যাপ্তি নিয়ে মারাত্মক শঙ্কায় রয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে যেন সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা কোনোভাবেই পৌঁছাতে না পারেন, সেজন্য দূরপাল্লার ট্রেন, নগরীর মেট্রো এবং বাস পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, যারা রাজপথে নেমে এই প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন বা আসতে চাইছেন, তারা কেউই আর মোদি সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চান না। কেন্দ্র সরকার দিনে দিনে দেশের জনগণের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে বসেছে।
নির্বাচনী অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভের ওপর পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। যন্তর মন্তর এলাকাটি কার্যত সিলগালা করে রেখে সাধারণ মানুষকে আটক করে সাময়িকভাবে বন্দি রাখার জন্য দিল্লির একাধিক ক্রীড়া স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী কারাগারে রূপান্তর করা হয়। পরিস্থিতির তীব্রতা অনুধাবন করে সিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে। দলটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী যেখানেই তাদের বাধা দেবে বা আটকে দেবে, আন্দোলনকারীরা যেন রাজপথের ঠিক সেই স্থানটিকেই 'যন্তর মন্তর' বানিয়ে তাঁদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
মন্তব্য করুন