যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার পরীক্ষা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার সত্যতা মেলার পর এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কেন্দ্রে এসে হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাকরিপ্রার্থীরা। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সকাল থেকেই রাজধানীর মতিঝিল, শাপলা চত্বর ও মিরপুরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও মিছিল শুরু করেন তাঁরা।
সরেজমিনে রাজধানীর মতিঝিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, খিলগাঁও মডেল কলেজ ও মিরপুর বাংলা কলেজসহ বেশ কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। চাকরিপ্রার্থীরা মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে প্রশ্নফাঁস চক্রের সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের দাবি জানান। দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ধারদেনা করে এবং সারারাত জার্নি করে বহু কষ্ট সহ্য করে তাঁরা ঢাকায় এসেছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তাঁদের শারীরিক শ্রম, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক স্বপ্নভঙ্গের দায় সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমা রানাসহ একাধিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন যে, দেশে প্রশ্নফাঁস এখন মহামারির আকার ধারণ করেছে এবং লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ান ইসলাম জানান যে শাপলা চত্বরে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৪২টি সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের বিপরীতে দেশজুড়ে ৩ লাখেরও বেশি প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল, যার জন্য ঢাকায় প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
মন্তব্য করুন