চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াসা মোড় এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে এক যুবককে ধাওয়া করতে গিয়ে দ্রুতগতির একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোররাত ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আল আমিন সরদার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) শাখায় কর্মরত থাকলেও কোতোয়ালী থানায় সংযুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া এই কনস্টেবল মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী গ্রামের আব্দুল হক সরদারের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর তিন মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কোতোয়ালী থানার ওয়াসা মোড় এলাকার জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে চেকপোস্টে অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন আল আমিন। এ সময় তিন যুবককে সন্দেহজনকভাবে হাঁটতে দেখে তাঁদের থামার সংকেত দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে চেকপোস্টের ইনচার্জ এএসআই হিরণ মিয়া তাঁর পিছু নেন এবং কনস্টেবল আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে সামনে থেকে ওই যুবককে ঘেরাও করতে মসজিদের পশ্চিম গেটের দিকে এগিয়ে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে ‘লিডার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর একটি দ্রুতগতির বাস পেছন দিক থেকে আল আমিনের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়ার পর বাসটি তাঁকে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত সড়কে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়।
সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান এবং আইসিইউতে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই সোমবার ভোরে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাসটির চালক মোশাররফ (৩৮) ও হেলপার জয় দাসকে (৩০) আটক করে পুলিশ এবং বাসটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় সিএমপি পুলিশ লাইন্সে প্রথম জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে পাঠানো হয়, যেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে। তরুণ এই পুলিশ সদস্যের অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে এই মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিহত পুলিশ সদস্যের পরিবারকে সব ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রদান করা হবে।
মন্তব্য করুন