সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত এবং মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নাগরিকদের জন্য কেবল একটি ছাদ বা ঘর তৈরিই যথেষ্ট নয়, বরং সেই বাসস্থানকে পুরোপুরি নিরাপদ ও টেকসই করে তোলাও বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। টেকসই আবাসনের প্রকৃত অর্থ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আদর্শ বাসস্থানের সঙ্গে নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সরাসরি জড়িত। সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই আবাসনের মূল লক্ষ্য।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরগুলোতে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপের কথা স্বীকার করে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমানে ঢাকা শহর অতিরিক্ত জনসংখ্যায় পরিণত হয়েছে এবং দেশের অন্যান্য শহরগুলোর অবস্থাও প্রায় একই রকম। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় সর্বজনীন বাসস্থান ও টেকসই নগরায়ণ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সবার জন্য মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
পরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীভূত নগরায়ণের ধারণার বাইরে এসে সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার চারপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় গৃহায়ন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল আবাসন সংকট মোকাবিলা করা কিছুটা কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তা ও অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ব্লকভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকায় এলাকায় পার্ক, খেলার মাঠ এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার সরকারি প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন