দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং বৈশ্বিক নানা সমীকরণের মধ্য দিয়ে চলা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্ব শেষে লড়াই গড়াচ্ছে দ্বিতীয় দফায় বা রানঅফে। রবিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দণ্ডের ভোটাভুটিতে কোনো প্রার্থীই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট অর্জন করতে না পারায় আগামী ২৫ অক্টোবর চূড়ান্ত রানঅফ নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী সেনেটর ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো।
নির্বাচনী জনমত জরিপগুলোকে ভুল প্রমাণ করে সাবেক কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারোর ৪৫ বছর বয়সি পুত্র ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম স্থানে উঠে এসেছেন। ফলাফল প্রকাশের পর রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফ্ল্যাভিও এটিকে লুলার ওয়ার্কার্স পার্টির যুগের অবসান বলে আখ্যায়িত করেন এবং মাত্র এক মেয়াদে দেশ পরিচালনার মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, দেশটির সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। রিও ডি জেনিরোতে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে লুলা জানান, তিনি প্রথম রাউন্ডেই বিজয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলেন, তবে নতুন উদ্যমে তাঁরা আগামী কয়েক সপ্তাহের প্রচারণায় নামবেন।
আসন্ন রানঅফ নির্বাচনটি ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশটির অবস্থান কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভোটারদের সামনে এখন দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী পথ খোলা রয়েছে। একপক্ষে রয়েছেন ৮০ বছর বয়সি লুলা দা সিলভা, যিনি বহুমুখী কূটনীতি, বহুঘাঁটিয়ান জোট এবং লুলার দীর্ঘদিনের সমাজকল্যাণমূলক রাজনীতির ধারা বজায় রাখতে চান। অন্যদিকে রয়েছেন ফ্ল্যাভিও বোলসোনারো, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র এবং ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য ডানপন্থী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য শুল্ক এবং বৈদেশিক নীতি নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারণায় বড় প্রভাব ফেলেছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মানসিকতায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত রাউন্ডের ভোটে নির্ধারিত হবে দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ এই অর্থনীতির দেশটিতে আগামী দিনে কাদের হাতে ক্ষমতা যাচ্ছে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ব্রাজিল কোন ব্লকের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখবে।
মন্তব্য করুন