হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই কৌশলগত নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার কোনোভাবেই মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে ইরান এই জলসীমার ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে এবং যেকোনো বাহ্যিক আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেবে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোলফাঘারি প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা লজিস্টিক অভিযানে সহায়তা করে, তবে ইরান সেই পদক্ষেপকে সরাসরি শত্রুতা হিসেবে গণ্য করবে। এই হুঁশিয়ারি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষার দায়ভার ইরানের এবং এর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কোনোভাবেই একে শত্রুর নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান নিয়মিতভাবে চুক্তি ভঙ্গ করে আসছে, যার ফলে তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানার সময় এসেছে। বিশ্ববাজারের একটি বিশাল অংশের জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই দুই দেশের পালটাপালটি হুমকি এবং নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই নতুন সংকট পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন