দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিয়েতে ‘গায়ে হলুদ’ অনুষ্ঠান কি ইসলামে বৈধ? জানুন কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি

০ শেয়ার
বিয়েতে ‘গায়ে হলুদ’ অনুষ্ঠান কি ইসলামে বৈধ? জানুন কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি
গায়ে হলুদ। ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ধর্মে বিয়ের অনুষ্ঠান ও গায়ে হলুদ প্রথা নিয়ে কী বলা হয়েছে? কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে জেনে নিন এর শরয়ী বিধান ও সীমারেখা।

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • বিবাহ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং মানবজীবনের অন্যতম পবিত্র বন্ধন।
  • ইসলাম এই পবিত্র বন্ধনকে সহজ, বরকতময় এবং শরিয়াহসম্মতভাবে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
  • তবে বর্তমান মুসলিম সমাজে বিয়ে উপলক্ষে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ‘গায়ে হলুদ’ অন্যতম।

বিবাহ ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং মানবজীবনের অন্যতম পবিত্র বন্ধন। ইসলাম এই পবিত্র বন্ধনকে সহজ, বরকতময় এবং শরিয়াহসম্মতভাবে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তবে বর্তমান মুসলিম সমাজে বিয়ে উপলক্ষে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ‘গায়ে হলুদ’ অন্যতম। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এই প্রথার বৈধতা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে।

ইসলাম কখনোই মানুষের স্বাভাবিক আনন্দ-উল্লাস বা বিনোদনকে নিষিদ্ধ করেনি; বরং তা যেন শালীনতা ও আল্লাহর নির্দেশনার সীমার মধ্যে থাকে, সেই শিক্ষা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিবাহ উপলক্ষে আনন্দ প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন এবং ওলিমা করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রা.)-কে নবীজি (সা.) তাঁর শরীরে সুগন্ধির চিহ্ন দেখে বিবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তাঁকে ওলিমা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন (বুখারি ৩৯৩৭)। তবেলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হাদিসের সঙ্গে বর্তমান সমাজে প্রচলিত ‘গায়ে হলুদ’ অনুষ্ঠানের কোনো মিল নেই। ওই ঘটনায় সাহাবির গায়ে যে সুগন্ধির (জাফরান বা মিশ্রণ) চিহ্ন ছিল, তা মূলত তাঁর স্ত্রীর ব্যবহারের সুগন্ধি থেকে লেগেছিল, যা পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মের বাইরে ছিল না। অন্যদিকে, প্রচলিত গায়ে হলুদ প্রথার উৎপত্তি মূলত ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার থেকে, যা পরবর্তীতে মুসলিম সমাজে প্রবেশ করেছে।

ইসলামি আইন ও ফিকাহর মূলনীতি অনুযায়ী, শুধু গায়ে হলুদ বা সুগন্ধি ব্যবহার করা বা আনন্দ করা এককভাবে নিষিদ্ধ নয়। তবে কোনো অনুষ্ঠান বা গায়ে হলুদ প্রথা যদি নির্দিষ্ট কিছু হারাম বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তবে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা নাজায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও পর্দার লঙ্ঘন।

  • গায়রে মাহরাম বা পরনারীর স্পর্শ।

  • অশ্লীল বা ইসলামবিরোধী গান-বাজনা ও নাচানাচি।

  • অতিরিক্ত অপচয় ও লোকদেখানো বা আড়ম্বরপূর্ণ খরচ।

  • ইসলামী আকিদার পরিপন্থী কোনো বিশ্বাস, কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস।

ইসলাম চায় বিবাহের মতো পবিত্র ইবাদত অত্যন্ত সহজ ও বরকতময় হোক। হাদিসে এসেছে ‘সর্বাধিক বরকতময় বিবাহ হলো, যার ব্যয় ও কষ্ট সবচেয়ে কম।’ (মুসনাদ আহমাদ ২৪৫২৯)। এছাড়া পরনারীর স্পর্শের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মাথায় লোহার সূঁচ বিদ্ধ হওয়াও এমন নারীকে স্পর্শ করা থেকে উত্তম, যে তাঁর জন্য হালাল নয় (তাবারানি ৪৮৬)।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিবাহের আনন্দ যদি ইসলামী শালীনতা বজায় রেখে, নারী-পুরুষের পর্দা রক্ষা করে, গায়রে মাহরামের স্পর্শ এড়িয়ে এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা ও অপচয় বর্জন করে উদযাপন করা হয়, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ ও প্রশংসনীয়। কিন্তু বর্তমান সমাজে প্রচলিত গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানগুলো যদি শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে, তবে তা পরিহার করাই মুমিন মুসলমানের প্রধান কর্তব্য।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

ইমরান খানের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় পাকিস্তান সরকারের আইনি আপত্তি

2

ম্যানচেস্টার সিটির নজরে চেলসি উইঙ্গার পেড্রো নেতো: দলবদলের খবর

3

টাম্বলার রিজ হামলার আগে ChatGPT-তে সহিংসতার আলোচনা, নিষেধাজ্ঞার পর খুলেছিলেন দ্বিতীয় অ্যাকাউন্ট

4

পাকিস্তানকে আর প্রতিপক্ষই মনে করি না: ভারতীয় বোর্ড সভাপতি

5

ব্যালন ডি'অর প্রিভিউ: আগামীকাল লন্ডনে অনুষ্ঠান, দৌড়ে এগিয়ে কেন, ইয়ামাল ও এমবাপে

6

২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের, নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় সেলেসাওরা

7

বান্দরবানে অস্ত্র ও গুলিসহ কেএনএফ সদস্য আটক

8

সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

9

সাতছড়ির গহীনে বিজিবির অভিযান, মাটির নিচে মিলল অস্ত্র ও গোলাবারুদ

10

নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশের সুষম উন্নয়ন সম্ভব নয়: ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম