যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। সম্প্রতি ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় যেভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, এই ক্ষেত্রেও একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার দিকে ধেয়ে আসেন এবং চরম আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে 'কেন এসেছেন' সহ নানা উসকানিমূলক ও অপমানজনক মন্তব্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থক ও কর্মী ড. ইউনূসকে বিমানবন্দরে এভাবে প্রকাশ্যে হয়রানি ও হেনস্তা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্বে বিভিন্ন স্থানে যারা এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও দুষ্কৃতকারী মনোভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদের সতর্ক করে তিনি জানান যে এমন পদক্ষেপ নিলে তাদের কঠোর আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। পাশাপাশি একজন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস প্রাপ্য রাজকীয় প্রটোকল ও যথাযথ সম্মান পেয়েছেন কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক সমঝোতা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা বা অপরাধবোধ দেখা যায়নি, বরং তারা বিভিন্ন সময় অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। সার্বিক এই সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নাকচ করে দেন।
মন্তব্য করুন