সন্তান, নাতি-নাতনি বা নিকটাত্মীয়কে সম্পত্তি দান করার পর অনেক প্রবীণ ব্যক্তির শেষ বয়সে আশ্রয়হীন হয়ে পড়া কিংবা নিগ্রহের শিকার হওয়ার মতো বাস্তব সমস্যা রোধে ‘ভোগ-দখলের অধিকার সংরক্ষণসহ দান’ ব্যবস্থাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে মত দিয়েছে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিআরএসএ)। সম্প্রতি সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর সংশ্লিষ্ট বিধানে সংযোজনের মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই নতুন ব্যবস্থার ফলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রবীণ দাতা জীবদ্দশায় নিজেদের সম্পত্তির ভোগ-দখলের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে তা হস্তান্তর করতে পারবেন।
সাধারণত সম্পত্তি দানের পর অনেক সময় দানগ্রহীতা তা বিক্রি করে দেওয়া বা দাতাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে থাকেন। পরবর্তীতে প্রবীণ ব্যক্তিরা দলিল বাতিলের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ছুটে গেলেও, আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিল বাতিলের ক্ষমতা সাব-রেজিস্ট্রারদের নেই এবং তা শুধুমাত্র উপযুক্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এই আইনি সীমাবদ্ধতা ও প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন এই বিধান দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিআরএসএ-এর মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এছাড়া স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই নতুন বিধান চালু হলেও প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা কিংবা অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের পুরোনো ব্যবস্থাগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে।
মন্তব্য করুন