ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে এক ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। অত্যন্ত সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থিত এই কূটনৈতিক মিশনে অতর্কিত এই হামলায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন জোরালো আক্রমণ মার্কিন স্বার্থ এবং ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এক বড় ধরনের চপেটাঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার পরপরই দূতাবাসের নিরাপত্তা সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলাটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল। একাধিক ড্রোন এবং স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে চালানো এই আক্রমণে দূতাবাসের আশেপাশে বেশ কিছু বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, যদিও দূতাবাসের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার পর থেকে গ্রিন জোন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধরনের অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সাধারণত ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোই চালিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন এবং ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, বাগদাদের এই হামলা তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের খুঁজে বের করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরাক সরকার এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কূটনৈতিক মিশনের ওপর এ ধরনের আক্রমণ ইরাকের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার প্রক্সি যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব রাজনীতিতে।
মন্তব্য করুন