|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জনআস্থার রাজনীতি: সস্তা জনপ্রিয়তার ঊর্ধ্বে মানুষের কল্যাণ

রাজনীতির মূল শক্তি জনপ্রিয়তা নয়, বরং মানুষের দীর্ঘস্থায়ী আস্থা। ডিজিটাল যুগের এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার জোয়ার থাকলেও, সাধারণ মানুষ আজ বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। সস্তা জনপ্রিয়তার মোহে বিভ্রান্ত না হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনকে সহজ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলা। যখন কোনো উন্নয়নের ফিরিস্তি বা প্রচারণার চেয়ে মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ বেশি বড় হয়ে ওঠে, তখনই রাষ্ট্রের ভিত্তি নড়বড়ে হতে শুরু করে।

জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রকৃত সূচক এখন বড় বড় প্রকল্প নয়, বরং সরকারি হাসপাতাল, অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাওয়া সেবার মান। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পাওয়া কিংবা সরকারি দপ্তরে হয়রানির শিকার হওয়া এসবই রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ এবং হাসপাতালের খাদ্য ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে, রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এখন সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস তৈরির প্রধান কেন্দ্রস্থল হলো সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। একজন পুলিশ সদস্য, ভূমি কর্মকর্তা কিংবা কর কর্মকর্তার আচরণ থেকেই সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের রূপ বুঝতে পারে। তাই সরকারি সেবায় দক্ষতার চেয়েও বেশি প্রয়োজন আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সেবার নির্দিষ্ট মানদণ্ড নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের অসন্তোষ কমে আসবে। একই সঙ্গে, প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান এবং শিক্ষকদের উপস্থিতির মাধ্যমে অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, জনপ্রিয়তার চেয়ে জনসেবার ইতিহাসই দীর্ঘস্থায়ী হয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে জনমুখী করে গড়ে তোলাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। প্রতিটি দপ্তরে সেবার মান নির্ধারণ, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। যখন একজন নাগরিক বিনা হয়রানিতে সেবা পাবেন এবং নিজের প্রাপ্য অধিকারটুকু সম্মানের সাথে নিশ্চিত করতে পারবেন, তখনই রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থা ও ভালোবাসা বাড়বে। প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক তিনিই, যিনি প্রচারণার আলোর চেয়ে সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটানোকেই নিজের প্রধান সাফল্য বলে মনে করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয় পার্টি নেতার বাড়িতে নাহিদ-হাসনাতের রাতযাপন: চট্টগ্রামে

1

লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় জনপদে ধারণকৃত ‘ইত্যাদি’র নতুন পর্ব প্রচ

2

ইরানকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্রসহ ২২ দেশ

3

প্রাণ গ্রুপে সেলস ম্যানেজার নিয়োগ

4

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ১৭৭ পদে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রক

5

জেন-জি অলস ও লিবারেল মগজধোলাইয়ের শিকার: বিতর্কের মুখে ক্যারো

6

হরমুজ প্রণালিতে বহিরাগত হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না ইরান: পররাষ্ট

7

দীর্ঘ ১০ বছরের পথচলা শেষে বিয়ের পিঁড়িতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

8

রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কোয়েল মল্লিক

9

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কাতারে আবারও মুখোমুখি হতে পারে স্পেন-আর

10

এমবাপ্পের চোট নিয়ে কাটছে না রহস্য, মাঠে ফেরা নিয়ে বাড়ল অনিশ্

11

দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় লাফ

12

সরকারের ৫ মাস পূর্তি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিকেলে সংব

13

থাইল্যান্ডে আবিষ্কৃত ২ হাজার বছরের প্রাচীন সোনার আংটি ও ব্রা

14

যুক্তরাষ্ট্রে এসি ব্যবস্থাপনা শিখতে যাচ্ছেন গণপূর্তের ৮ শীর্

15

তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার:

16

আর্জেন্টিনার কৌশলে মেসির স্বপ্নভঙ্গ, ১৯ বছরেই ‘ফুটবলের ষোলোক

17

মেয়ে অন্বেষাকে নিয়ে স্বস্তিকা মুখার্জির আবেগপূর্ণ বার্তা ২০২

18

জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের পদত্যাগ ‘স্ট্যান্টবাজি’

19

বাংলাদেশে মিয়াজাকি আমের বাণিজ্যিক চাষ

20