প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় ময়মনসিংহে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চারজন আসামিকে সাজা প্রদান করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) আদালত-১-এর বিচারক মো. সামছুদ্দিন এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নাজমুল হক ও এনামুল হক নামের দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড এবং তাদের বাবা জিয়াউল হক ও চাচা জুলহাস উদ্দিনকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত সৈকত হাসান আকাশ ময়মনসিংহের অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিয়াউল হকের মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে মেয়েটির পরিবার তা মেনে নেয়নি। এর জের ধরে ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে পরিকল্পিতভাবে মেয়েটির মাধ্যমে আকাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার দুই দিন পর ২১ মে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকরাম হোসেন কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি পুলিশ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত এ রায় দেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নাজমুল হক ও এনামুল হককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিনকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে নাজমুল হক, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিন আদালতে উপস্থিত থাকলেও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক পলাতক রয়েছেন। রায় পরবর্তী সময়ে উপস্থিত আসামিদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আকাশ হত্যা মামলার এই রায় সম্পর্কে আরও কিছু জানার থাকলে বা অন্য কোনো সংবাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে জানাতে পারেন।
মন্তব্য করুন