সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থী বিরোধী জোটের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন পদত্যাগ করেছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এর আগে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, প্রায় ১ কোটির জনসংখ্যার দেশটিতে দুই জোটের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫০ হাজার।
সুইডিশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের নেত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট দেশটির পার্লামেন্ট ‘রিকসডাগ’-এর ৩৪৯টি আসনের মধ্যে ১৭৬টিতে জয়ী হতে চলেছে। অন্যদিকে, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটটি ১৭৩টি আসনে জয়ী হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রক্ষণশীল নেতা ক্রিস্টারসন সরকার পরিচালনায় অভিবাসন-বিরোধী ও কট্টর ডানপন্থী দল ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাটস’ (এসডি)-এর সমর্থন নিয়েছিলেন এবং নির্বাচনে জিতলে তাদের মন্ত্রিসভায় পদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ক্রিস্টারসন বলেন, ‘এখন স্পিকারই নতুন সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপের নেতৃত্ব দেবেন। সেই কাজ যাতে অবিলম্বে শুরু হতে পারে, সেজন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চাইছি।’ পাশাপাশি পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলকে কিছু ‘জটিল’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে নির্বাচনী বিজয়ের পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভাষণে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন বলেন, ‘সুইডেনের জনগণ আমাদের দেশের জন্য একটি নতুন পথের পক্ষে ভোট দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, সুইডেনে দুটি প্রধান রাজনৈতিক জোট রয়েছে যার একটিতে চারটি ডানপন্থী এবং অন্যটিতে চারটি বামপন্থী দল অন্তর্ভুক্ত। ফলে সুইডিশ জনগণ জোট বা সংখ্যালঘু সরকারের সঙ্গেই বেশি পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর এখন রিকসডাগের স্পিকার পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য সব দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন এবং পরবর্তীতে সংসদ সদস্যরা সেই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন।
মন্তব্য করুন