নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উৎসাহিত করতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকেই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনই নয়, সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সচিবালয়, জাতীয় সংসদ ভবনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সবার আগে এই উদ্যোগে যুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে কখন বলব, যখন নিজেরা করব।’
সরকারি এই পরিকল্পনার আওতায় দেশের প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কমপ্লেক্সে ৫.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, এক ঘণ্টার ব্যাকআপসহ এই মানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসাতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা। এই কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ও গুরুত্বপূর্ণ হাটবাজারের মতো জনবহুল স্থানে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা দেখতে পাবেন এবং নিজেদের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হবেন। সরকারের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগও তৈরি করা হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে দেশের বড় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য জানানো হয় যে, বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১২টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর পাশাপাশি বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ এবং অ্যাগ্রিভোল্টাইক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও সাড়ে চারশ থেকে সাড়ে পাঁচশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
মন্তব্য করুন