হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। মার্কিন থিংক ট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) জ্যেষ্ঠ ফেলো চার্লস কাপচানের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলমান সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব ও ভূরাজনৈতিক চাপের মুখে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছেন। বিশেষ করে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই ট্রাম্প প্রশাসনকে আলোচনার টেবিলে বসতে উৎসাহিত করেছে।
কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাপচান উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে। তবে এই জলপথ নিয়ে চুক্তি হলেও ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনই কোনো বাস্তব বা স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। তাছাড়া যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আর আগের মতো উন্মুক্ত থাকবে না, কারণ ইরান এই জলপথকে নিজেদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শিখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের অভিযান, মিসরে মার্কিন জাহাজে হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এই বহুমুখী সংঘাত এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয় এড়াতেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত সংঘাত থামানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলো এই অঞ্চলে আর কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখতে চায় না, যা মার্কিন প্রশাসনকে সমঝোতার পথে হাঁটতে বাধ্য করছে।
মন্তব্য করুন