ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নজরদারি এবং জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবকদের আধুনিক পদ্ধতিতে নতুন করে প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরের সময় শিলিগুড়ি করিডরের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যার পরই এই প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিং জেলায় ইতিমধ্যেই বিপুলসংখ্যক উৎসাহী যুবক-যুবতীকে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন ধাপে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকে প্রায় ১ হাজার জনের একটি তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে বর্ষাকালীন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রায় আড়াই শ স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তবে সরকারের পরিকল্পনা হলো এই স্বেচ্ছাসেবকদের পরিধি শুধু দুর্যোগ মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ না রেখে উদ্ধারকাজ, প্রাথমিক চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দ্রুত মানুষ উদ্ধারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজে সম্পৃক্ত করা। এর জন্য জাতীয় ও রাজ্য স্তরের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর আধুনিক কারিগরি সহায়তা নেওয়া হবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনকে তথ্য দেওয়া, দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয় সাধনের কাজেও এই স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে জলপথে উদ্ধারকাজের জন্য দ্রুতগামী নৌকা এবং জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত একটি বিশেষ দলও দার্জিলিং জেলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী এই শিলিগুড়ি করিডর সামরিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সাম্প্রতিক বৈঠকে জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা আরও কঠোর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনবল ও দক্ষ স্বেচ্ছাসেবকদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে আগামী দিনে শিলিগুড়ির এই কৌশলগত করিডরের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও বেশি সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তারা।
মন্তব্য করুন