মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রমবর্ধমান ভূমিকা পালন করে চলেছেন। বর্তমানে দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের টিউশন ফি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত যোগ হচ্ছে। সম্প্রতি তেরেংগানুর পানতাই তেলুক কেতাপাংয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ কমিউনিটি ইমারশন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য প্রকাশ করেছেন এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেসের (ইএমজিএস) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নোভি তাজউদ্দিন।
ইএমজিএসের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একজন বিদেশি শিক্ষার্থী গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত খরচ করে থাকেন। এই বিশাল অংকের ব্যয় কেবল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ভিতকেই শক্ত করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকেও দারুণভাবে গতিশীল করে তুলছে। বিশেষ করে খাবার হোটেল, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের সেবা খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এই ব্যয়ের অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, তেরেংগানুর ইউনিভার্সিটি সুলতান জাইনাল আবিদিন কিংবা ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেংগানুর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশের স্থানীয় জনপদও এই বিদেশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির কারণে বহুমুখী অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা ভোগ করছে।
ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার মতো দেশের দিকে শিক্ষার্থীদের ঝোঁক বেশি থাকলেও বর্তমানে মালয়েশিয়াও আন্তর্জাতিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। গত তিন বছরে দেশটিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের এক সুদূরপ্রসারি লক্ষ্য ঠিক করেছে মালয়েশিয়া সরকার, যার জন্য ১০ বছর মেয়াদী একটি সুনির্দিষ্ট ‘মালয়েশিয়া হায়ার এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বের প্রায় সাত থেকে আটটি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। এর মধ্যে গৌরবজনকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তাছাড়া, দেশটিতে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই স্নাতকোত্তর বা উচ্চতর ডিগ্রিতে পড়াশোনা করছেন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই বিশাল ছাত্রসমাজ মালয়েশিয়ার শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বদরবারে আরও বেশি পরিচিত করে তুলছে।
মন্তব্য করুন