ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কেবল গালিগালাজ, অভদ্র আচরণ কিংবা কটু কথা ব্যবহার করলেই তা ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীনে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে গণ্য হবে না। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণে জানায়, কোনো বক্তব্য বা উচ্চারণ তখনই অশ্লীল বলে বিবেচিত হবে, যখন তা অতিরিক্ত কামোদ্দীপক হয়ে মানুষের মনে বিকৃত চিন্তার উদ্রেক ঘটায় ও সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে।
মামলার প্রেক্ষাপটে আদালত জানায়, কোনো শব্দ যতই গালিগালাজপূর্ণ, অপ্রীতিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা আইপিসির ২৯৪(বি) ধারার শর্ত পূরণ করে না। আইপিসির এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হতে হলে জনসমক্ষে সেই শব্দের কারণে অন্য কেউ বিরক্ত বা উত্যক্ত হয়েছেন এমন অকাট্য প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক, যা এই বিশেষ ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল। ফলে আদালত আইপিসির ২৯৪(বি) ধারার অধীনে অভিযুক্তের সাজা বাতিল করে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তামিলনাড়ুর একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে। বিরোধের সময় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কটু কথা, গালিগালাজ এবং জাতিগত বৈষম্যমূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। নিম্ন আদালত ও মাদ্রাজ হাইকোর্টে এই মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে দণ্ডাদেশ বহাল থাকলেও, সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান রায়ে আইপিসির ধারা সংক্রান্ত আইনি ব্যাখ্যায় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণের ফলে ভবিষ্যতে আইপিসির ২৯৪ ধারার অধীনে মামলার ক্ষেত্রে ‘অশ্লীলতা’র সংজ্ঞা নির্ধারণে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আদালত স্পষ্ট করেছে, শুধু গালিগালাজ করলেই কাউকে দণ্ডবিধির অশ্লীলতার ধারায় অপরাধী করা আইনসম্মত নয়।
মন্তব্য করুন