আল-আকসা মসজিদ থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে ঐতিহাসিক নিদর্শন অপসারণের অপচেষ্টা করছে ইসরাইল। এই ‘ইহুদীকরণ’ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ইসরাইলকে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে মুসলিম বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
মুসলমানদের প্রথম কিবলা পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বর থেকে তথাকথিত ‘নিরাপত্তার অজুহাতে’ প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহ অপসারণের এক গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে ইসরাইল। দখলদার বাহিনীর এই সুদূরপ্রসারী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তেল আবিবকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। আল-আকসার আদি ঐতিহাসিক ও মুসলিম ঐতিহ্য রক্ষা করতে এবং ইসরাইলের এই আগ্রাসন রুখে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ মুসলিম উম্মাহর প্রতি জরুরি ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-আকসা মসজিদের ভেতরে থাকা একের পর এক ঐতিহাসিক ও প্রাচীন ইসলামিক নিদর্শনগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে ইসরাইল সরকার। হামাস এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরাইলিদের এই ধ্বংসাত্মক ও উসকানিমূলক পদক্ষেপের সর্বশেষ শিকার হয়েছে আল-আকসা মসজিদ চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘মুসার গম্বুজ’ (Dome of Moses)। প্রত্নতাত্ত্বিক ও ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটির ঐতিহ্য নষ্ট করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পবিত্র জেরুজালেম নগরী এবং আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের সাম্প্রতিক তৎপরতার ৩টি প্রধান দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সুপরিকল্পিত 'ইহুদীকরণ' প্রক্রিয়া: হামাসের অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতটি আসলে একটি মুখোশ মাত্র। ইসরাইল মূলত আল-আকসা চত্বর থেকে ইসলামের প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সরিয়ে সেখানে জোরপূর্বক সম্পূর্ণ জেনোফোবিক ও ‘ইহুদীকরণ’ (Judaization) প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
২. উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা: ফিলিস্তিনিদের স্পষ্ট বার্তা, ইসরাইলি চরমপন্থী সরকারের চাপিয়ে দেওয়া এই জঘন্য মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় আঘাত ফিলিস্তিনিরা কখনোই মেনে নেবে না। এই উসকানিমূলক আচরণের ফলে অবরুদ্ধ পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে চলমান যুদ্ধ উত্তেজনা আরও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
৩. আরব ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান: আল-আকসা মসজিদের ওপর চালানো এই ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করতে আরব লীগ, ওআইসি (OIC) এবং বিশ্বের সব মুসলিম দেশকে কেবল নিন্দা না জানিয়ে সরাসরি কূটনৈতিক ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে হামাস।
ঐতিহাসিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আল-আকসা মসজিদ চত্বর বা হারাম আল-শরিফ মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি স্থান। অতীতেও এই পবিত্র মসজিদের ভেতরে ইসরাইলি পুলিশ বা উগ্র ইহুদিদের অবৈধ প্রবেশকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে এই প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন সরানোর অপচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের বারুদ ঠাসা পরিস্থিতিকে আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।