ভারতের বিহার রাজ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে প্রায় ৭০০ বছর বয়সী এক বিশাল বটগাছ, যা পুরো ভারতজুড়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এতদিন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হতো যে, গাছটির বয়স বড়জোর ৩০০ থেকে ৩৫০ বছরের মধ্যে। কিন্তু আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণার পর জানা গেল, এটি যতটা পুরনো মনে করা হয়েছিল, তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি প্রাচীন। লখনউয়ের বীরবল সাহানি ইনস্টিটিউট অফ প্যালিওসায়েন্স-এর গবেষকরা এই গাছটির বয়স নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। গাছটির একদম ভেতরের অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোষীয় উপাদানের সবচেয়ে স্থিতিশীল অংশ বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এই অভাবনীয় তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বটগাছের মতো চওড়া পাতার গাছগুলোর সঠিক বয়স বের করা বেশ কঠিন কারণ এগুলো অন্য অনেক গাছের মতো প্রতি বছর বলয় তৈরি করে না। তবে নতুন এই গবেষণায় ব্যবহৃত বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা গাছটির বয়স ৭০০ বছর হিসেবে নিশ্চিত করেছেন। এই প্রাচীন গাছটি মুঙ্গের অঞ্চলের এক পুরোনো স্থাপনার কাছে অবস্থিত। ঐতিহাসিকদের মতে, এই গাছটি মুঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ শাসন এবং অসংখ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের নীরব সাক্ষী হিসেবে এখনো টিকে আছে।
এটি যে কেবল বিহারের কোনো একটি গাছ, তা নয়; গবেষকরা একে প্রাচীন বনাঞ্চলের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও টিকে গেছে। এই আবিষ্কার পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। গাছটিকে এখন একটি জীবন্ত আর্কাইভ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কয়েক শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলের জলবায়ু ও ভূ-প্রকৃতির বিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন এখন এই ঐতিহাসিক বৃক্ষটিকে হেরিটেজ বা ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষের মর্যাদা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যাতে ভবিষ্যতে এটি আরও সুরক্ষিত থাকে।
মন্তব্য করুন