দীর্ঘ নয় মাস পর অবশেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। কারাবন্দি এই নেতার স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তার স্ত্রী ও বোনের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সামা টিভি ও ডন পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ।
আদালতের নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনেই কারাগারের কনফারেন্স রুমে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যা মাত্র ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। সাক্ষাতের সময় মূলত ইমরানের শারীরিক অবস্থা এবং সাম্প্রতিক চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় তার বোন নোরিন নিয়াজি তাকে সুপ্রিম কোর্টের সেই আদেশের বিষয়ে জানান, যেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ইসলামাবাদে অবস্থিত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে আদালতের পূর্বনির্ধারিত কঠোর সতর্কবার্তা থাকায় সাক্ষাৎ শেষে রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি তার স্বজনরা। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ সময় অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বোনের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি পৃথকভাবে নিজের স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গেও দেখা করার সুযোগ পান দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দি ৭২ বছর বয়সি এই রাজনীতিবিদ। আদিয়ালা জেলের একই কনফারেন্স রুমে ইমরান খান ও বুশরা বিবির এই সাক্ষাৎ প্রায় ৩৫ মিনিট ধরে চলে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বর্তমানে এই কারাগারেই বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন ইমরান খান। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় শীর্ষ আদালত তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়, যেখানে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির আগ পর্যন্ত তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে থাকার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন