নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাতে এক নজিরবিহীন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৮ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। গত সোমবার (১০ আগস্ট) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকার অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা শিক্ষকদের চরম গাফিলতি ও ভঙ্গুর শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশ্য প্রশ্ন তুলেছেন।
জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই মাদ্রাসাটি পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত হলেও বর্তমানে এর সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। প্রতিষ্ঠানটিতে কাগজে-কলমে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা বলা হলেও মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় যে নবম, দশম শ্রেণি ও প্রাথমিক শাখা মিলিয়ে মাত্র ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। তীব্র শিক্ষার্থী সংকটের কারণে একটিমাত্র কক্ষেই জোড়াতালি দিয়ে দুটি শ্রেণির পাঠদান চালানো হচ্ছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মোট ১০টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে এবং কোনো কোনো কক্ষে ভাঙাচোরা টিনের স্তূপ জমে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস নেন না এবং পড়ালেখার পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফেল করা শিক্ষার্থী সিয়ামের বাবা বাচ্চু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে শিক্ষকরা ক্লাসে পড়ানোর পরিবর্তে আড্ডা দেন এবং অভিভাবকদের অভিযোগ কানেই তোলেন না। মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী তৌহিদও জানান যে ২০০৭ সালে পড়াশোনার পরিবেশ ভালো থাকলেও বর্তমানে শিক্ষক-পরিচালনা কমিটির অবহেলা ও তদারকির অভাবে মাদ্রাসাটি পুরোপুরি ধ্বংসের পথে।
১৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করার মতো লজ্জাজনক ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেছেন যে তিনি নিজেই এই ফলাফলে হতভম্ব হয়ে গেছেন। তিনি জানান, খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী ২০২৭ সালের পরীক্ষায় শতভাগ পাসের নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি চমক সৃষ্টি করবেন। শ্রেণিকক্ষ সংকট ও সরকারি অনুদান না পাওয়ার অজুহাত দিয়ে তিনি বলেন যে মাত্র দুটি রুম দিয়ে তাদের ৯টি ক্লাস চালাতে হয়।
এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে বেলাবো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক জানিয়েছেন যে মাদ্রাসার এই চরম বিপর্যয় কেন ঘটলো, তার ব্যাখ্যা চেয়ে প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তলব করে এর সঠিক কারণ ও উত্তরণের উপায় জানতে চাওয়া হবে এবং তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি
মন্তব্য করুন