চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ডগুলো পূর্বের নিয়ম বহাল রেখে নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব পাঠালেও মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন না করে বরং শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর থেকে তিন ধাপের পরিবর্তে মাত্র এক ধাপে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে এবং সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে বাতিল করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত মাইগ্রেশন বা কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ। এছাড়া বিগত বছরগুলোর তুলনায় ভর্তি প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে এনে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তা শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহিত হয়। পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা একাধিক ধাপে আবেদন ও কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পেলেও এবার প্রথম ও একমাত্র পর্যায়েই পছন্দমতো কলেজ চয়েস দিতে হবে। তবে যেসব শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনর্নিরীক্ষার পর নতুন করে পাস করবে কিংবা কোনো কারণে প্রথম ধাপে কলেজ বা নিশ্চায়ন পাবে না, কেবল তারাই পরবর্তী সময়ে আরেকটি বিশেষ সুযোগ পাবে।
ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে এবং শিক্ষাপঞ্জিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবার সময়সীমা বেশ কমিয়ে আনা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবে নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাওযা হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাতে সম্মতি দেয়নি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের একেবারে প্রথম সপ্তাহেই অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করার জোরালো প্রস্তুতি চলছে। এমনকি ফল পুনর্নিরীক্ষার পর আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ক্লাসও আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে। বিগত বছরগুলোতে সেশনজট ও নানা জটিলতার কারণে ক্লাস শুরু হতে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর গড়ালেও, এ বছর এসএসসির ফল প্রকাশের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে চায় সরকার। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই নতুন নীতিমালা আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করে জারি করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন