শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি সাধন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সুকৌশলে ‘আসক্ত’ করে তোলার গুরুতর অভিযোগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান ‘মেটা প্ল্যাটফর্মস’-এর বিরুদ্ধে আমেরিকার ২৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের গড়া এই দ্বিদলীয় জোট মেটার বিরুদ্ধে মামলাটিতে কেবল শত শত কোটি ডলারের বিশাল অঙ্কের জরিমানাই দাবি করেনি, বরং প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসায়িক মডেলেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জোরালো দাবি তুলেছে। তবে মুনাফার লোভে জেনেশুনে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের আসক্ত করার এই সমস্ত অভিযোগ শুরু থেকেই সরাসরি অস্বীকার করে আসছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা।
মামলার বিবরণে ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি এবং নিউজার্সির নেতৃত্বাধীন জোটটি অভিযোগ করেছে যে, মেটা কমবয়সি ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং তাদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে আটকে রাখতে প্ল্যাটফর্মগুলোর ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করেছে, যা শিশুদের মনে উদ্বেগ, তীব্র বিষণ্ণতা এবং অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রবণতা পর্যন্ত তৈরি করছে। এছাড়া শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ ও ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। আদালতে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মেগান ওনিল মন্তব্য করেছেন যে, ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলা এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করাই মেটার মূল ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য। অপরদিকে মেটার আইনজীবী পল স্মিথ পাল্টা দাবি করেছেন যে, কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে তাদের মানসিক ক্ষতির কোনো স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক সংযোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি এবং সিইও মার্ক জাকারবার্গ প্ল্যাটফর্মটিকে নিরাপদ করতেই সচেষ্ট ছিলেন।
এই বিচারকাজে একটি ৮ সদস্যের জুরি বোর্ড প্রাথমিক পরামর্শমূলক রায় প্রদান করবে, তবে মামলার চূড়ান্ত আইনি দায় বা ফয়সালা নির্ধারণ করবেন মার্কিন জেলা বিচারক ইভন গনজালেস রজার্স। মেটা শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রেকর্ড পরিমাণ জরিমানা এবং অ্যাপের ডিজাইনে বেশ কিছু কঠোর বাধ্যতামূলক পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারেন। মামলার প্রধান সাক্ষী হিসেবে মেটার সাবেক নিরাপত্তা প্রকৌশলী আরতুরো বেজার আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে, নতুন ফিচার চালুর সময় শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা এই ঐতিহাসিক আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মেটার শীর্ষ কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিরও সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
মন্তব্য করুন