ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ৯ জনের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। চিকিৎসার জন্য বা নানা কাজে কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি পর্যটকরা মূলত এই ধরনের আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থান করে থাকেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়ে বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার সকালে ঘটিত এই অগ্নিকাণ্ডের পর বহুতল ভবনটির ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। পাঁচতলা বিশিষ্ট ওই ভবনটির প্রায় প্রতিটি তলাতেই ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ ঘর এবং সরু চলাচলের পথ। স্থানীয়দের মতে, ঘরগুলো ছিল অনেকটা পায়রার খোপের মতো এবং সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঘাটতি ছিল। ভবনটির মূল প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথটি এতই সংকীর্ণ ছিল যে, মধ্যরাতে হঠাৎ আগুন লাগার পর আতঙ্কিত আবাসিকরা সহজে বাইরে বের হতে পারেননি। পুরো ভবন ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় অনেকে শৌচাগারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে ওপর থেকে ঝাঁপও দেন।
প্রাথমিক তদন্তে ভবনটির অনুমোদন, নির্মাণ পরিকল্পনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা পৌরসভার নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত কক্ষ তৈরি এবং পর্যাপ্ত ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট না থাকার বিষয়টি স্থানীয়রা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও পদস্থ কর্মকর্তা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন