মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কিছুটা কমে আসার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ফেডের মুদ্রানীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নানামুখী পর্যালোচনার ফলে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে নতুন করে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৩৫৬ দশমিক ৫৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর আগের দিন অবশ্য স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২২ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। আর প্রতি গ্রামের দাম প্রায় ১৭ হাজার ১০০ টাকা হিসাব করলে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের আন্তর্জাতিক স্পট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা বা প্রায় ২ লাখ টাকার কাছাকাছি। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এটি শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক কাঁচাবাজারের স্পট মূল্যের সরল হিসাব। স্থানীয় বাজারে জুয়েলারি দোকানগুলোতে সোনা কিনতে গেলে এর সঙ্গে ডলারের রেট, আমদানি খরচ, ভ্যাট এবং কারুকার্য অনুযায়ী মজুরি বা মেকিং চার্জ যুক্ত হওয়ায় চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য এর চেয়ে বেশ কিছুটা বেশি হয়ে থাকে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কিছুটা কমে আসায় তা স্বর্ণের দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সুদের হার কম থাকলে সাধারণত বুলিয়ন বা স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ে। এছাড়া মার্কিন বাজেট ঘাটতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে থাকা উদ্বেগও স্বর্ণের বাজারকে শক্তিশালী করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বর্ণ ও জ্বালানি তেলের বাজারে।
মন্তব্য করুন