যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার কড়া জবাব দিতে অবশেষে পালটা অবস্থান নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রমুখী ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির রপ্তানিতে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের এই দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও প্রযুক্তি যুদ্ধকে এই পালটা পদক্ষেপ আরও বহুগুণ তীব্র করে তুলবে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন চীনা টেলিকম অপারেটর, পরীক্ষাগার, রাউটার, সাবমেরিন কেবল, রোবোটিক্স সরঞ্জাম এবং বিদ্যুৎ ইনভার্টারের ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আরোপ করার পাশাপাশি ৪০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করায় বেইজিং এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
চীনের নতুন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে অ্যারিজোনাভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্স টেস্টিং এলএলসি’ (Compliance Testing LLC), যাদের বিরুদ্ধে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও অ্যাপ্লায়েড ডিএনএ সায়েন্সেস, স্ট্র্যাটাম রিজার্ভার, আলটানা টেকনোলজিস, রেসপনসিবল বিজনেস অ্যালায়েন্স, ভেরিটে গ্রুপ এবং হিউম্যান রাইটস ইন চায়নার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চীনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক সহযোগিতা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিনজিয়াং ইস্যুতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি বেইজিংয়ের। অন্যদিকে, ড্রোন রপ্তানির ওপর বাড়তি নজরদারি আরোপ করে জানানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ও এর যন্ত্রাংশের প্রতিটি চালান এখন থেকে আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেওয়া হবে, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন পরিদর্শন সংস্থার কারখানা পরিদর্শনের অনুমতি স্থগিতকরণ এবং প্রিন্টার ও ফটোকপির মতো অফিস সরঞ্জাম আমদানিতে নতুন করে জাতীয় নিরাপত্তা তদন্ত শুরুর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওপর কৌশলগত চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চীন।
মন্তব্য করুন