বাংলার বন্যাকবলিত অঞ্চলে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত কলাগাছের ভেলা এখন আর কেবল সেই কাজেই সীমাবদ্ধ নেই। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের সোহেল নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকল ব্যবহার করে সুতা তৈরির প্রযুক্তি আয়ত্ত করে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেবল ইউটিউবের ভিডিও দেখে নিজের অদম্য ইচ্ছা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজ সফল একজন উদ্যোক্তা।
সোমবার (৬ জুলাই) সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিজ বাড়ির প্রবেশমুখে মেশিন বসিয়ে তিনি নিয়মিত কলাগাছের খোল থেকে সুতা উৎপাদন করছেন। সোহেল জানান, সাধারণত কলা সংগ্রহের পর গাছগুলো মাঠেই ফেলে রাখা হয়, যা এখন তার কাছে মূল্যবান কাঁচামাল। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬০ কেজি কলাগাছ প্রক্রিয়াজাত করে এক কেজি সুতা পাওয়া সম্ভব। এই সুতা মানভেদে বর্তমানে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই সুতা দিয়ে ব্যাগ, দড়ি, ম্যাট ও বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব হস্তশিল্প তৈরি করা সম্ভব।
সোহেলের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক হলো এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সুতা তৈরির পর অবশিষ্ট অংশ ফেলে না দিয়ে তা থেকে জৈব সার তৈরি করছেন তিনি। এছাড়াও কলাগাছের বাকল থেকে কাগজ ও মাছের খাবার এবং রস থেকে বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্য তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এই উদ্যোক্তা। স্থানীয়রা মনে করছেন, সোহেলের এই উদ্ভাবনী চিন্তা কেবল তার নিজের কর্মসংস্থানই করেনি, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ কৃষি বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ সোহেলের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে এবং সরকারি সহযোগিতার সুযোগ থাকলে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোহেলের স্বপ্ন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে তিনি এই উদ্যোগকে একটি বৃহৎ শিল্পে রূপান্তর করবেন। এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও কলাগাছ বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারবেন। সোহেলের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী চিন্তা থাকলে পরিত্যক্ত কৃষি বর্জ্যই হতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন হাতিয়ার।
মন্তব্য করুন