যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়ায় চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত তিন মাস ধরে ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকায় বাধ্য হয়ে এলাকার অসহায় মানুষ রাস্তার ওপর পলিথিন দিয়ে ছোট টং ঘর বানিয়ে গবাদিপশুসহ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আকস্মিক ও দীর্ঘমেয়াদি এই জলাবদ্ধতার কারণে তিন উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, বসতভিটা ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে নৌকা যোগাযোগ ও চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। ডুমুরতলা গ্রামের শিব পদ বিশ্বাসের মতো দুর্গত মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বছরের পর বছর ধরে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করলেও এই সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির অভিযোগ, পাকিস্তান আমলের ত্রুটিপূর্ণ স্লুইসগেট ব্যবস্থা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভবদহের মানুষের এই দুর্গতি নিত্যদিনের সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষক-শ্রমিকদের নিয়ে পুনরায় কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগ্রাম কমিটির নেতারা।
এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও জলাবদ্ধতা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি মিলছে না। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রায় ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং নদী খনন পুরোপুরি সম্পন্ন হলে আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রায় ৪৯ কোটি টাকার আমডাঙ্গা খাল সংস্কার প্রকল্প জেলা প্রশাসন কর্তৃক জমি অধিগ্রহণ না করার কারণে দুই বছর ধরে আটকে থাকায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। ভুক্তভোগীদের একটাই প্রশ্ন—প্রকল্প ও অর্থ বরাদ্দ সত্ত্বেও ভবদহবাসীর এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে কবে?
মন্তব্য করুন