দেশের বিভিন্ন স্থানে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে চরম সন্ত্রাস ও অপরাধ। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো বিরোধের জেরে একের পর এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা, ঢাকার কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে ফিল্মি স্টাইলে যুবককে খুন, এবং চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্যের জেরে গত আড়াই বছরে ৪০টি খুনের ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
চট্টগ্রামের উত্তরের দুই উপজেলা রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার মানুষ সন্ত্রাসীদের ভয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এ এলাকায় খুনোখুনি ও চাঁদাবাজির প্রকটতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। গত আড়াই বছরে এখানে ৪০টির মতো খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে শুধু রাউজানেই নিহত হয়েছেন ২৭ জন। বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ খানের অনুসারী ও বিভিন্ন স্থানীয় বাহিনীর আধিপত্য, মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজির কারণে পুরো আন্ডারওয়ার্ল্ড অস্থির হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি রাউজানের উরকিরচরে মোহাম্মদ করিমকে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এই দুর্ধর্ষ কিলারদের বেপরোয়া তৎপরতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে সেলুনে চুল কাটার সময় মো. ফরহাদ হোসেন (২৩) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারকেন্দ্রিক কিশোর গ্যাং ও অপরাধীচক্রের আধিপত্য বিস্তার এবং কিছুদিন আগে নিহত এলেক্স ইমনের হত্যার বদলা নিতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে চোর সন্দেহে মো. ফয়সাল নামের এক যুবককে খুঁটিতে বেঁধে পৈশাচিক কায়দায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের বাবা দাবি করেছেন ফসাল কোনো চোর ছিলেন না, তিনি শ্রমিকের কাজ করতেন। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও গভীর নিন্দা জানিয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমান উল্ল্যাহপুর ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ চারজন আহত হয়েছেন। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিনজনকে আটক করেছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন