নোয়াখালীর চাটখিলে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ শিশু ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা আক্তার চাঞ্চল্যকর এই মামলার একমাত্র আসামি শাহাদাত হোসেনকে (২৬) মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানারও আদেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি ও ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ চাটখিলের নিজ গ্রাম থেকে শিশুটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়। আট দিন অনুসন্ধানের পর ২ এপ্রিল পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয় বাবুলের ছেলে শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরদিন ৩ এপ্রিল পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, শাহাদাতের বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করে যে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি শাহাদাত হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিশেষ পিপি সেলিম শাহী এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী শুক্লা সাহা জানান, আসামি আদালতে অপরাধ স্বীকার করায় এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আপিলের বিষয়টি পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা-মা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে তারা এই রায় দ্রুত কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। চাটখিলের এই নৃশংস ঘটনাটি সে সময় পুরো এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল, আর আজ আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
মন্তব্য করুন