যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত দেড় দশকের শাসন ও শোষণ কাটিয়ে দেশকে পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন’ এই তিন মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি কার্যকর ‘থ্রি-আর’ (3-R) কৌশল বাস্তবায়নের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন তিনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি কল্যাণমুখী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন বিগত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস। তিনি জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ ও নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পরিবার কার্ড, প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ ও মানবসৃষ্ট সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে, যা সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে ১২ লাখের বেশি বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় চাপ উল্লেখ করে তিনি জানান, সংকটটির একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো মিয়ানমানে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক জলবায়ু বিচার এবং তহবিল সহায়তার জোর দাবি জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি আত্মনির্ভরশীল, গণতান্ত্রিক ও বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার পথে রয়েছে। ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: বাংলাদেশ ফর অল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
মন্তব্য করুন