সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২৪ জন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী বলে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে, যেখানে ট্রানজিটে থাকা বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা অবস্থান করছিলেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় হতাহত বাংলাদেশিরা বর্তমানে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করছে দূতাবাস।
দূতাবাসসূত্রে জানা গেছে, কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আশঙ্কাজনক কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিন বাংলাদেশি ঢাকার হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক। অন্যদিকে ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে ভর্তি আছেন সাফকাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম, যার মধ্যে সাফকাত রহমান এখনো অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতাল, প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতাল, সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতাল, কিংডম হাসপাতাল, কিং খালেদ মেডিক্যাল সিটি এবং প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বাকি আহত বাংলাদেশিদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলার পর বিমানবন্দরে আটকে পড়া শত শত সাধারণ ও ওমরাহ যাত্রীদের রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। সৌদি আরবের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১০০ জন যাত্রীর জন্য মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে আবাসন ও খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে আসা ৬৭ জন যাত্রীকে বিশেষ বাসে করে নিরাপদ উপায়ে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রিয়াদ-ঢাকাগামী বাতিল হওয়া ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ জন যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে পাঠানোর সব ধরনের সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন