ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুসের মধ্যকার দূরত্ব ও সংকট যেন বেড়েই চলেছে। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ের পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের সঙ্গে এই প্রবীণ কোচের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়েছে। জাতীয় দলের অধিনায়ককে দলে না রাখা এবং আগের ম্যাচে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের মুখে নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চাইতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানিয়েছেন জেসুস।
উয়েফা নেশনস লিগে টানা চতুর্থ জয়ে পর্তুগাল দল ইতোমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। তবে স্কোয়াডে না থাকলেও সিআরসেভেনকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। দীর্ঘক্ষণ ওয়ার্মআপ করানোর পরও নরওয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাঠে না নামিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে ৪১ বছর বয়সি এই তারকা ফরোয়ার্ড ক্যাম্প ছেড়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর কাছে কোচ ক্ষমা চাইবেন কি না এমন সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ৭২ বছর বয়সি কোচ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘কিসের জন্য ক্ষমা চাইব? কী কারণে আমাকে ক্ষমা চাইতে হবে?’ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জেসুস আরও বলেন, এসব ঘটনার পুরো বিষয়টি খেলোয়াড়ের ওয়ার্মআপ নিয়ে তৈরি হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তের কোনো দায় তাঁর নয়। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোচ নিজের কথা স্পষ্ট করে যান।
দলের ওপর নিজের সম্পূর্ণ কর্তৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পর্তুগাল বস বলেন, তিনি দলের কোচ এবং কাকে দলে ডাকবেন বা কাকে মাঠে নামাবেন, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। স্কোয়াড গঠন বা একাদশ নির্বাচন নিয়ে তিনি কারোর সঙ্গে কোনো আপস করেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তবে জাতীয় দলের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি জেসুস। তিনি জানান, রোনালদো যদি নিজে চান, তবে তিনি জাতীয় দলে ফিরতেই পারেন। আল-নাসরেও রোনালদোর কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেসুস বলেন, পরবর্তী দল ঘোষণার আগে তাঁদের মধ্যে কথা হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ক্রিসিয়ানোর নিজের ওপরই নির্ভর করছে।
আগামী মাসেই রয়েছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতি, যেখানে ১৪ নভেম্বর ডেনমার্কের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। এখন থেকেই ফুটবল পাড়ায় শুরু হয়ে গেছে জল্পনা-কল্পনা আসন্ন ওই ম্যাচের স্কোয়াডে কি শেষ পর্যন্ত ফিরবেন রোনালদো, নাকি কোচ ও মহাতারকার এই দ্বন্দ্বের অস্থিরতা চলতেই থাকবে!
মন্তব্য করুন