ভারত মহাসাগরের উত্তাল জলরাশিতে এক ভয়াবহ সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সফলভাবে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ (ডেস্ট্রয়ার) লক্ষ্য করে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ঘাদর-৩৮০’ এবং ‘তালাইয়েহ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে। প্রেসটিভির বরাতে জানা গেছে, হামলার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের সীমান্ত থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল এবং একটি মার্কিন ট্যাংকার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করার প্রক্রিয়ায় ছিল। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি জাহাজেই প্রচণ্ড অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ‘ঘাদর’ হলো একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যা ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে, ‘তালাইয়েহ’ একটি অত্যন্ত আধুনিক কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা ১,০০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে লক্ষ্যবস্তু ভেদ করতে সক্ষম এবং উড্ডয়নকালীন সময়েও নিজের গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। আইআরজিসি এই বিশেষ আক্রমণকে তাদের ‘ট্রু প্রমিস ৪’ অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, গত শনিবার থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে যে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন শুরু হয়েছে, এটি তারই একটি কঠিন ও দাঁতভাঙা জবাব।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত এই যুদ্ধের আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়েছে। আইআরজিসি-র দাবি অনুযায়ী, তাদের এই প্রতিশোধমূলক অভিযানের আওতায় কেবল ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোই নয়, বরং কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে মার্কিন স্বার্থের ওপর একের পর এক এই প্রতিশোধমূলক হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা মানচিত্রকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বনেতারা যখন পরিস্থিতি শান্ত করার পথ খুঁজছেন, তখন সমুদ্রসীমায় এই নতুন সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন