যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়েছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। এর মাধ্যমে তিনি ‘লর্ড খান অব টুটিং’ উপাধি লাভ করেছেন। উচ্চকক্ষের সদস্যপদ পাওয়ার পরও তিনি লন্ডনের স্বার্থে নিজের কাজ অব্যাহত রাখার জোরালো ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্য ও লেবার পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে লন্ডনের মেয়র হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন সাদিক খান। যে টুটিং এলাকায় তার জন্ম এবং যেখান থেকে তিনি দীর্ঘ ১১ বছর এমপি ছিলেন, সেখানকার নামানুসারেই তাকে এই পিয়ার বা লর্ড উপাধি দেওয়া হয়েছে। রাজনীতিতে আসার পূর্বে তিনি মানবাধিকার আইন নিয়ে কাজ করতেন এবং পরবর্তীতে গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রী ও পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ২০১৬ সালে প্রথম লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি বর্তমান মেয়র ব্যবস্থার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই পদে আসীন রয়েছেন। করোনা মহামারি ও নানা সন্ত্রাসী হামলার মতো সংকটময় সময়েও তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গত বছর তিনি ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত হন।
হাউস অব লর্ডসের সদস্য পদ পাওয়াকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় সম্মান হিসেবে দেখছেন সাদিক খান। মেয়র থাকাকালীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাবার নিশ্চিতকরণ, বায়ুদূষণ রোধ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির মতো কাজগুলোর কথা তিনি স্মরণ করেন। নিয়মের কারণে হাউস অব লর্ডসের সদস্য হলেও তাকে লন্ডনের মেয়র পদ ছাড়তে হচ্ছে না এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারবেন। তবে অতীতে তিনি হাউস অব লর্ডস প্রথা বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নিলেও বর্তমানে নিজেই এই পদে যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার মুখ পড়েছেন। তা সত্ত্বেও ব্রিটিশ রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ও প্রভাব সুসংহত করার ক্ষেত্রে এই উপাধি তাকে এক নতুন সুযোগ করে দিল।
মন্তব্য করুন