বিএনপি নেতা রাশেদ খান সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। রাশেদ খানের দাবি, হাসনাত ও সারজিস নিজেরা সরাসরি দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্যে জড়িত না থাকলেও, গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের মতো ব্যক্তিদের ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেছেন।
রাশেদ খান তার পোস্টে ডিসি নিয়োগ কেলেঙ্কারি এবং সচিবালয়ে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের রহস্যময় কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুগ্ম সচিব কেএম আলী আজমের সঙ্গে মিলে তানভীর যে ডিসি তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন, তা হাসনাত ও সারজিসের পরামর্শেই করা হয়েছিল। গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে সচিবালয় ও এনসিটিবির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনেও এই সমন্বয়কদের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রাশেদ খানের প্রশ্ন, একজন বিতর্কিত ও অখ্যাত ব্যক্তি হয়েও কীভাবে তানভীর সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সমন্বয়ক পরিচয়ে ঢুকে পড়েছেন এবং কেন তাকে এনসিপির মতো দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হয়েছে?
পোস্টে আরও উঠে এসেছে দুদক সংক্রান্ত এক বিতর্কিত ঘটনা। রাশেদ খানের দাবি, ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হাসনাত ও সারজিস দুদক কার্যালয়ে গিয়ে অতিগোপনীয় অভিযোগ দাখিলের নামে মূলত গাজী সালাউদ্দীন তানভীরসহ বিভিন্ন উপদেষ্টার এপিএস ও পিওদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রফাদফা করেছিলেন। তার অভিযোগ, হাসনাত ও সারজিসদের প্রভাবাধীন তৎকালীন দুদক কর্মকর্তারা তানভীরকে দায়মুক্তি প্রদান করেছিলেন, যা একটি পরিকল্পিত ‘সেটআপ’ ছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে টিআইবির প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের যে দুর্নীতি ও ঘুষের তথ্য উঠে এসেছে, তা এই ঘটনারই একটি অংশ। রাশেদ খানের মতে, এই বিষয়গুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে যারা এই পুরো দুর্নীতির নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সবশেষে রাশেদ খান স্পষ্ট করে বলেন, হাসনাত ও সারজিস তাদের স্বার্থ রক্ষা করতেই তানভীরের মতো ব্যক্তিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এখন যেহেতু দুর্নীতির তথ্য জনসমক্ষে আসছে, তাই সবকিছু নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এই বিএনপি নেতা। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ ও দুর্নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন