বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই মাঠ ও গ্যালারিজুড়ে তুমুল উত্তেজনা আর স্নায়ুযুদ্ধ। আর সেই উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে মাঠের রেফারির যেকোনো একটি ভুল বা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই এমন এক রোমাঞ্চকর ও হাইভোল্টেজ ম্যাচে রেফারি প্যানেল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রুপ পর্বে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও আফ্রিকার অন্যতম পরাশক্তি মরক্কোর মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন আলোচিত ও বিতর্কিত স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামছে সেলেসাওরা, যেখানে তাদের কঠিন পরীক্ষা নেবে মরক্কো। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের জন্য ভিনচিচকে প্রধান রেফারি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা)। তাঁর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তারই স্বদেশী দুই লাইনসম্যান। তবে ভিনচিচের অতীত ট্র্যাক রেকর্ড এবং মাঠ ও মাঠের বাইরের বিভিন্ন ঘটনা ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মনে কিছুটা হলেও চিন্তার খোরাক জোগাচ্ছে।
রেফারিং ক্যারিয়ারে অতীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভিনচিচ। বিশেষ করে, মাত্র এক মাস আগে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের একটি ম্যাচে তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচে রিয়াল মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ভিনচিচের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল।
কেবল মাঠের সিদ্ধান্তই নয়, মাঠের বাইরেও একবার বড়সড় নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন এই স্লোভেনিয়ান রেফারি। কয়েক বছর আগে একটি মাদক ও অপরাধ চক্র বিরোধী অভিযান চলাকালে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। তবে শুরু থেকেই নিজেকে ওই ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন ভিনচিচ। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় আদালত তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেয়। বিতর্ক ও চাপ সামলানোর এই পুরোনো ইতিহাস মাথায় রেখেই এবার ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে তাঁর রেফারিংয়ের দিকে কড়া নজর থাকবে ফুটবল বিশ্বের।
মন্তব্য করুন