সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও অসাধু একটি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সয়াবিন তেল নিয়ে ফের অস্থিতিশীলতা শুরু হয়েছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লিটারে আরও ৬ টাকা দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মিলগেট থেকে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলো। এর ফলে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে চাহিদামতো তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভোজ্যতেলের বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে হাতে গোনা ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানি। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে এই সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারকে চাপে ফেলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববাজারের অজুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও গত ২ সেপ্টেম্বর সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কোম্পানিগুলো এখন ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খুচরা দোকানে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলারদের দাবি, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় তারাও দোকানে তেল দিতে পারছেন না। এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোজ্যতেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। যদি কোনো চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন