টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নাটকের শেষ দৃশ্যটাও জমজমাট হলো। সাবেক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল ফাইনালে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিলেও টুর্নামেন্টের হিসাব মিলল না তাদের পক্ষে। সুপার এইটে শ্রীলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল-কে ৫ রানে হারিয়েও সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারেনি পাকিস্তান। কারণ, তাদের দরকার ছিল অন্তত ৬৫ রানের জয়। ফলে শেষ চার নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল।
পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৬৪ রান তোলে দলটি। দুজনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুতই শতরান পেরিয়ে যায় উদ্বোধনী জুটি।
মাত্র ৯৫ বলে ১৭৮ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন তারা। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ফখর ফেরেন সাজঘরে। আরেক প্রান্তে শতক পূর্ণ করেন ফারহান। ৬০ বলে ১০০ রান করে দলের ২০৩ রানের মাথায় আউট হন তিনি। এবারের আসরে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
তবে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেটে ২১২ রান তোলে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার হয়ে তিনটি উইকেট নেন দিলশান মাদুশাঙ্কা, দুটি দাসুন শানাকা এবং একটি দুশমন্থ চামিরা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই পাথুম নিসাঙ্কাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর কামিল মিশারা ও চারিথ আসালাঙ্কা কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মাঝের ওভারে নিয়মিত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে লঙ্কানরা।
তবে পাভান রাথনায়েকে ও দাসুন শানাকার জুটিতে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। রাথনায়েকে ৩৭ বলে ৫৮ রান করে আউট হন। শেষদিকে একাই লড়াই চালিয়ে যান শানাকা। ৩১ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ২৮ রান। বোলিংয়ে শাহীন শাহ আফ্রিদি। প্রথম বলে চার, পরের তিন বলে টানা তিন ছক্কায় ম্যাচে চরম উত্তেজনা ছড়ান শানাকা। সমীকরণ নেমে আসে দুই বলে ৬ রানে। কিন্তু শেষ দুই বলে আর রান তুলতে পারেননি তিনি। ফলে ৫ রানের নাটকীয় জয় পায় পাকিস্তান।
পাকিস্তানের হয়ে আবরার আহমেদ নেন তিনটি উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ নওয়াজ, নাসিম শাহ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি।
জয় পেলেও কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে না জেতায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ মিশন শেষ হলো পাকিস্তানের। নাটকীয় ম্যাচের পর্দা নামল বিদায়ের আক্ষেপ নিয়ে।
মন্তব্য করুন