আলো নয়, বরং চরম দারিদ্র্য ও সীমাবদ্ধতার অন্ধকার থেকে উঠে এসে বিশ্বফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ২০০০ সালের ১২ জুলাই ব্রাজিলের সাও গনসালো শহরে জন্মগ্রহণকারী ভিনির শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মাঝে। তবে পরিবারের অসীম ত্যাগ আর ছোটবেলায় ফুটসালের প্রতি তার ভালোবাসা তাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল। অভাবের তাড়নায় জীবনের সব হিসাব মিলাতে হিমশিম খেলেও, ভিনির স্বপ্ন ছিল গোটা পরিবারের স্বপ্ন।
ফ্লামেঙ্গো একাডেমির ঘাসের মাঠে তার আবির্ভাব ছিল এক রূপকথার মতো। তার অসামান্য গতি, ড্রিবলিং আর আক্রমণাত্মক খেলার শৈলী খুব দ্রুতই তাকে নিয়ে আসে রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবের নজরে। নতুন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জয় করে তিনি রিয়ালের হয়ে একাধিক লিগ শিরোপা ও ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতেছেন। ২০২৪ সালে পেয়েছেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফা বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলারের খেতাব।
তবে ভিনির আসল লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপ ২০২৬। গত বিশ্বকাপের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার তিনি ফিরেছেন এক অপ্রতিরোধ্য রূপে। বর্তমানে ব্রাজিলের আক্রমণের প্রাণভ্রমরা হয়ে উঠেছেন তিনি। মরক্কো ও হাইতির পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিন ম্যাচে চার গোলের মালিক হয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে রয়েছেন সামনের সারিতে। ২৪ বছর পর ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক গোল করে তিনি রোনালদো নাজারিও ও রিভালদোর মতো কিংবদন্তিদের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।
একসময় সাও গনসালো শহরের ছোট্ট কোর্টে বল নিয়ে দৌড়ানো ভিনিসিয়ুস আজ কোটি মানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু। তার দৌড় এখন কেবল বলের পেছনে নয়, বরং গোটা ব্রাজিলের শিরোপার স্বপ্নের পেছনে। দারিদ্র্যকে হারিয়ে তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে নিজের সক্ষমতার জানান দিচ্ছেন প্রতিটি ম্যাচে।
মন্তব্য করুন