পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইনের ওপর। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের পরপরই ইসরাইলি বাহিনী তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে এক সপ্তাহের জন্য মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ না করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন করে দানা বেঁধেছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল-আকসা মসজিদের খতিব এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ঘটনা নতুন নয়। তবে গ্র্যান্ড মুফতির মতো ব্যক্তিত্বের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনি জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি আল-আকসা মসজিদে সমবেত হয়েছিলেন, যা ওই স্থানের ধর্মীয় গুরুত্বের প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ।
পবিত্র এই মসজিদ এলাকা নিয়ে ইসরাইলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ক্রমশই উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনের আওকাফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত জুন মাসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ইসরাইলি বাহিনী মোট ২৬ বার আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রতিবেদনে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে যে, জুন মাসে ইসরাইলি বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় মাগরিবি বা মুঘরাবি গেট দিয়ে প্রায় ৪ হাজার ২১২ জন ইসরাইলি নাগরিক মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন।
আল-আকসাকে ঘিরে ইসরাইলের এই ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের কাছে তাদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করার একটি অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুফতি শেখ মোহাম্মদ হুসেইনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কি কেবলই একটি সাময়িক আদেশ, নাকি ধর্মীয় নেতৃত্বের কন্ঠরোধের কোনো বৃহত্তর কৌশলের অংশ তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। ইসরাইলি পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, পবিত্র এই স্থানে তাদের ধারাবাহিক নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ যে আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে, তা নিয়ে সচেতন মহল গভীরভাবে শঙ্কিত।
মন্তব্য করুন