দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর ভয়াবহ আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও যাতায়াত, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে গিয়ে ঋণ ও চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) যৌথভাবে পরিচালিত এক নতুন জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে।
মে ও জুন মাসে ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হামে আক্রান্ত ২ হাজার ৭৪৬টি পরিবারের ওপর এই মূল্যায়ন চালানো হয়। জরিপে দেখা গেছে, চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটাতে ৮৮ দশমিক ৯ শতাংশ বা ২ হাজার ৪৪২টি পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছে। এছাড়া ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার তাদের জমানো সঞ্চয় পুরোপুরি শেষ করে ফেলেছে এবং ৪ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার বাধ্য হয়ে সম্পদ বিক্রি করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের মাসিক আয় সাধারণত ৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১০ জনে। গ্রামাঞ্চল থেকে রাজধানীতে রোগীদের নিয়ে আসার ফলে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, থাকা-খাওয়া এবং বাইরে থেকে ব্যয়বহুল ওষুধ কেনার খরচ মেলাতে গিয়ে প্রান্তিক পরিবারগুলো সর্বস্বান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা এই পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয়ের’ ক্লাসিক উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য জরুরি তহবিল ও শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন