ভেনেজুয়েলায় বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে এর উৎপত্তিস্থল ছিল। প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরই দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং পরবর্তীতে দেশটিতে ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশ্বের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পটি তার তীব্রতার দিক থেকে উপরের সারিতে থাকলেও এটিই সর্বকালের রেকর্ড করা সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প নয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও’তে আঘাত হানা ৯.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি সবার উপরে রয়েছে।
এছাড়াও ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল ইতিহাসের অন্যতম মানবিক বিপর্যয়। জাপানের ২০১১ সালের তোহোকু ভূমিকম্প (৯.১ মাত্রা) এবং আলাস্কায় ১৯৬৪ সালের ৯.২ মাত্রার ভূমিকম্পও বিশ্ব ইতিহাসে বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হয়েছিল। এছাড়া রাশিয়া, ইকুয়েডর ও ভারতের অরুণাচল প্রদেশে আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলোও তীব্রতার বিচারে বিশ্বের ইতিহাসের তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে স্থান পেয়েছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগগুলো আমাদের পৃথিবীর ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের একটি বড় অংশ। প্রতিবার এমন ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান আমাদের সচেতনতা এবং প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তাকেই আবারও মনে করিয়ে দেয়।
মন্তব্য করুন