মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর করা নানা অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক আলোচনায় নিজের নাম জড়িয়ে পড়ায় অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন অপর মডেল জেবা তাকিয়া। সম্প্রতি একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ঘিরে আলোচিত ঘটনা, স্নিগ্ধার সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক, কাজের প্রস্তাব এবং পারিশ্রমিক নিয়ে বিভিন্ন বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন।
অডিও বক্তব্যে জেবা তাকিয়া দাবি করেন, অতীতে তাকে গুলশান-২ এলাকার একটি অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ‘এশিয়ান সিটি’ হাসপাতালের একটি টিভিসিতে কাজের জন্য তাকে ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু অফিসে পৌঁছানোর পর বিজ্ঞাপনের কাজের পরিবর্তে তাকে মডেলিং পেশা ছেড়ে দেওয়ার কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে জানানো হয়েছিল যে, তার যাবতীয় জীবনযাত্রার খরচ ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি বহন করবেন। তবে জেবা তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে অফিস থেকে বের হয়ে আসেন। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি বারবার ফোন করার চেষ্টা করলে তিনি তার নম্বর ব্লক করে দেন এবং এরপর তাদের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে জানান।
স্নিগ্ধা চৌধুরীর সঙ্গে বর্তমান সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জেবা জানান, বর্তমানে তাদের দু'জনের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। এমনকি স্নিগ্ধার সাবেক প্রেমিককে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেনও না। কেবল মানুষের মুখে শুনেছেন যে তাদের বিচ্ছেদটি খুব একটা সুখকর ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে নিজের নাম কেন বিভিন্ন মারামারি বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে টেনে আনা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
অডিওতে আসিফ ও সাকিব সনেট নামের দুই ব্যক্তির প্রসঙ্গও তুলে আনেন জেবা। তার ভাষ্যমতে, আসিফের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল কেবল বড় ভাই ও ছোট বোনের মতো। অন্যদিকে সাকিব সনেটও তার মার্জিত ও নিয়ন্ত্রিত আচরণের প্রশংসা করতেন। জেবার ধারণা, সহকর্মীদের এই ইতিবাচক মূল্যায়ন বা প্রশংসার কারণেই হয়তো স্নিগ্ধার মনে তার প্রতি এক ধরনের বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে স্নিগ্ধার ২০ লাখ টাকার নিচে কাজ না করার দাবিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন জেবা তাকিয়া। তার মতে, অপু বিশ্বাস, পরীমনি কিংবা জয়া আহসানের মতো প্রথম সারির ও প্রতিষ্ঠিত তারকারাই কেবল এমন পারিশ্রমিক দাবি করার যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু স্নিগ্ধা মাত্র একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং মডেল হিসেবেও ইন্ডাস্ট্রিতে এখনো সেভাবে পোক্ত পরিচিতি পাননি; তাই এ ধরনের উচ্চাভিলাষী দাবি কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।
এ ছাড়াও, নিজের সঙ্গে স্নিগ্ধার চেহারার মিল খোঁজার প্রবণতা নিয়েও অবাক হয়েছেন জেবা। হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্নিগ্ধা হয়তো সেখানে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে কখনো ওই হাসপাতালে পা রাখেননি। নিজেকে একজন সুপরিচিত ‘টপ মডেল’ দাবি করে জেবা বলেন, অনেক সময় অন্য কোনো সাধারণ মডেলের প্রসঙ্গ উঠলেও বিনোদন অঙ্গনে তার নাম অপ্রয়োজনে জড়িয়ে আলোচনা তৈরি করা হয়।
মন্তব্য করুন