বর্ষা মানেই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া আর চারদিকে বিষধর সাপের উপদ্রব। গ্রামবাংলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় এই সময়ে সাপে কামড়ানোর ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যায়। সম্প্রতি কাকদ্বীপে এক তরুণীকে কালাচ সাপ কামড়ানোর পর সাপের কামড় ও তার প্রতিকার নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপ মূলত ভীতু প্রকৃতির প্রাণী এবং নিজের নিরাপত্তার কারণেই মানুষে কামড়ায়। বিশেষ করে কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষরা বেশি এর শিকার হন। সাপে কাটলে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের মতো কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডঃ শ্যামল কুণ্ডু জানান, সাপে কাটার পর ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে রোগীর জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
ঘরে বা আশেপাশে সাপের প্রবেশ আটকাতে কার্বলিক অ্যাসিড ব্যবহারের চল থাকলেও এর তীব্র ঝুঁকি থাকে। তাই এর পরিবর্তে খুব সহজেই কিছু ঘরোয়া ও কার্যকরী উপাদান ব্যবহার করে সাপ দূরে রাখা সম্ভব।
১. ন্যাপথলিন: জানালার ফাঁকফোকর, দরজার নিচে কিংবা অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে কোণে ন্যাপথলিনের বল ছড়িয়ে রাখতে পারেন। এর উগ্র ও তীব্র গন্ধ সাপ সহ্য করতে পারে না এবং দূরে থাকে। তবে বাড়িতে ছোট শিশু বা পোষ্য থাকলে এটি ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
২. অ্যামোনিয়া: একটি পরিষ্কার কাপড় অ্যামোনিয়ায় ভালোভাবে ভিজিয়ে নিন। এরপর সেটি একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে ঘরের কোনো গর্ত, জানালার ধার কিংবা যেখান দিয়ে সাপ ঢোকার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে রেখে দিন। অ্যামেনিয়ার ঝাঁঝালো গন্ধ সাপ তাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী।
৩. সাদা ভিনিগার ও নুন: সাদা ভিনিগার এবং নুনের মিশ্রণে একটি কাপড় ভিজিয়ে নিন। তারপর সেটি ঘরের জানলার কোণ, নালার আশপাশে বা জমা জলের জায়গায় রেখে দিন। এর টক ও তীব্র গন্ধের কারণে সাপ ঘরের ধারেকালেও ঘেঁষতে সাহস পাবে না।
৪. রসুন ও পেঁয়াজ: রসুন এবং পেঁয়াজ থেঁতো করে বাড়ির বিভিন্ন ফাঁকফোকরে, জানালার পাশে কিংবা স্যাঁতসেঁতে জায়গাগুলোতে ছড়িয়ে দিতে পারেন। এই দুই উপাদানে থাকা বিশেষ গন্ধযুক্ত শক্তিশালী রাসায়নিক যৌগ সাপের সহ্য হয় না, ফলে তারা ওই এলাকা এড়িয়ে চলে।
বর্ষার এই আর্দ্র আবহাওয়ায় বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন এবং ঝোপঝাড় জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপের উপদ্রব থেকে নিরাপদে থাকুন।
মন্তব্য করুন