বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। শেষ ষোলোর সবচেয়ে আলোচিত ও রোমাঞ্চকর লড়াইটি হতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন ও পর্তুগালের মধ্যে। আগামী ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে এই দুই দল। ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই বিশাল স্টেডিয়ামে ইবেরিয়ান উপদ্বীপের দুই প্রতিবেশী দেশের লড়াইটি হয়ে উঠবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
চলতি বিশ্বকাপে স্পেন এখন পর্যন্ত নিখুঁত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। গ্রুপ পর্যায় থেকে রাউন্ড অব ৩২ পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি তারা। তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস এবং মাঝমাঠের কারিগর পেদ্রির সমন্বয়ে স্পেনের আক্রমণভাগ এখন যেকোনো রক্ষণভাগের জন্য দুঃস্বপ্ন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘টিকি-টাকা’ ফুটবলকে নতুন রূপ দিয়েছে, যা তাদের বর্তমান টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে, পর্তুগালের মূল শক্তি তাদের অভিজ্ঞতায়। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ অভিযানকে সফল করতে মরিয়া দলটি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নেওয়া পর্তুগালের মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বের্নার্দো সিলভার মাঝমাঠের সৃজনশীলতা এবং রোনালদোর গোল করার সহজাত প্রবৃত্তি যে কোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। পর্তুগিজ কোচ মনে করেন, বড় ম্যাচে স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞতা এবং স্নায়ু ধরে রাখার সক্ষমতাই জয় নির্ধারণ করে দেবে।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ পুরনো এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সর্বশেষ নেশনস লিগ ফাইনালের পর থেকেই এই দুই দলের লড়াইয়ে নতুন করে প্রতিশোধ ও আধিপত্যের আমেজ তৈরি হয়েছে। এক পক্ষে ইয়ামালের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মের নতুন জোয়ার, অন্য পক্ষে রোনালদোর নেতৃত্বে অভিজ্ঞ সৈনিকদের রণকৌশল সব মিলিয়ে এটি একটি ক্লাসিক ফুটবল লড়াই হতে যাচ্ছে। বলের দখল রাখা স্পেন নাকি ক্ষিপ্র গতির পাল্টা আক্রমণে বিশ্বাসী পর্তুগাল, ডালাসের সেই আলো ঝলমলে রাতে কে শেষ হাসি হাসবে, সেটিই এখন কোটি ভক্তের বড় প্রশ্ন।
মন্তব্য করুন