চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সামগ্রিকভাবে পাসের হার কমার পাশাপাশি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এবারের পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের যতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, তাদের সবাই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।
তবে এর বিপরীতে দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থীই ফেল করেছে। গত বছরের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি, যা এ বছর কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬৯টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৩১৫টি। অন্যদিকে, গত বছর শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৩৪টি, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১২টিতে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক লাফে ১৭৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা এবার কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া চলতি বছর দেশের সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসেবে এবার পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। সার্বিকভাবে পরীক্ষার এই নিম্নমুখী ফলাফল এবং শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি দেশের শিক্ষাঙ্গনে বেশ বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মন্তব্য করুন