কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বকাপে অংশ নিতে দেশটির খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও প্রতিটি ম্যাচ শেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশটি ত্যাগ করতে হবে তাদের। এমন পরিস্থিতি বাস্তবায়িত হলে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হবে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এ ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ইরানের অংশগ্রহণ, ভিসা এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ইরান তাদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসে। দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে আবারও ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরবে দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারলে আরও ম্যাচ খেলতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
প্রাথমিকভাবে ইরানের বেস ক্যাম্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসনের নাম বিবেচনায় থাকলেও বর্তমানে তারা মেক্সিকোকে বিকল্প আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে। এ বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম বলেন, ইরান চাইলে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবে এবং এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ জানিয়েছেন, তাদের দলকে জানানো হয়েছে ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে খেলা শেষে দ্রুত ফিরে যেতে হবে। তার ভাষ্য, সকালে প্রবেশ করে একই দিন ফিরে আসার পরিকল্পনাই তাদের সামনে রাখা হয়েছে। তবে ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেনি ফিফা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের খেলোয়াড় ও প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের জন্য ভিসা অনুমোদন করেছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ভিসা পাননি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় খেলোয়াড় ও সহায়ক কর্মীদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।
মন্তব্য করুন